নাগরপুর পরিচিতি
উপজেলা ঘোষনাঃ ১০-০৯-১৯৮৩খ্রিঃ
সীমানাঃ পূর্বে মির্জাপুর, সাটুরিয়া ও ধামরাই উপজেলা, পশ্চিমে চৌহালী,
দৌলতপুর উপজেলা, উত্তরে টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ার উপজেলা, দক্ষিণে মানিকগঞ্জ
জেলার দৌলতপুর উপজেলা।
আয়তনঃ ২৬৬.৭৭ বর্গকিলোমিটার।
... লোকসংখ্যাঃ ২,৫৮,৪৩১জন। (পুরুষঃ ১,২৬,৮৮১, মহিলাঃ ১,৩১,৫৫০ জন( ২০০১ আদমশুমারী অনুযায়ী)
ইউনিয়ন ও গ্রাম সংখ্যাঃ আয়তনের দিক থেকে টাঙ্গাইল জেলার- তম উপজেলা
নাগরপুরে ইউনিয়ন সংখ্যা মোট ১২টি। গ্রামের মোট সংখ্যাঃ ৪৪টি। এর মধ্যে
নাগরপুর সদরে ইউনিয়নে ১৮টি, সহবতপুরে ২৭টি, ভারড়ায় ২৭টি, মামুদনগরে ২৫টি,
গয়হাটায় ২৬টি, দপ্তিয়রে ২৯টি , মোকনায় ১৯টি, ভাদ্রায় ২৭টি , বেকড়া আটগ্রামে
৮টি, সলিমাবাদে ৬টি, পাকুটিয়ায় ১৭টি এবং ধুবড়িয়ায় ১৫টি গ্রাম আছে।
উপজেলায় মোট মৌজার সংখ্যা ২১৮টি। উল্লেখ্য, নাগরপুর থানার সৃষ্টি হয় ১৯০৬ সালে আর বর্তমান অবস্থায় রূপ নেয় ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে।
ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্টঃ প্রধান নদী যমুনা ধলেশ্বরী লৌহজং নোয়াই।
নাগরপুরের উত্তর দিক দিয়ে ধলেশ্বরী এবং পশ্চিম দিক দিয়ে যমুনা প্রবাহিত।
অভ্যন্তরে লৌহজং এবং নোয়াই নদী বিভিন্ন ভৌগলিক সীমানা চিহ্নিত করে বয়ে
গেছে। উপজেলায় মোট নদী পথ- প্রায় ৩০ কিলোমিটার।
ভূমিঃ নাগরপুরের
মাটি যমুনা ধলেশ্বরী প্লাবন ভূমি। মোটামুটি সমতল ভূমি এলাকা এই নাগরপুর।
নদী বাহিত বেলে এবং কাদা মাটি দিয়ে গড়া এখানকার জমি কৃষি কাজের জন্যে বেশ
উপযোগী। বিশেষ করে উভয় নদী পারের মাটি বেলে দো’আশ বলে তা খুবই উর্বর।
বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমান গড়ে ৮০¢ থেকে ৯০¢। জলবায়ূ-নাতিশিতোষ্ণ ।
অর্থনীতিঃ নাগরপুরের অধিকাংশ মানুষ এখন কৃষির উপর নির্ভর। এই এলাকার মোট
জনগোষ্ঠীর মধ্যে কৃষি ৪৬.৬৮%, মৎস্য ১.২৯%, কৃষি শ্রমিক ১৯.০৮%, অকৃষি
শ্রমিক ২.৫৯%, তাঁত ১.০৬%, শিল্প ১.৭৭%, ব্যবসা ৯.০৯ %, চাকুরী ৯.৩৪%এবং
অন্যান্য ৯.০১%। এছাড়া দেখা যায় এখানকার মোট শিক্ষিত যুবকের প্রায় ৬৫ ভাগ
বেকার। বাকীরা বিভিন্ন ধরনের চাকুরী, ব্যবসা বানিজ্য, প্রবাসী, এবং
অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।
হাট-বাজার ও মেলাঃ নাগরপুরের সাপ্তাহিক
হাট এবং সলিমাবাদের গরুর হাট জেলার অন্যতম বড় হাট। বড়টিয়া গ্রামের
‘‘ড্যাকরা বৈট্টা’’ এবং চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন ‘‘ছিমলাবাজের মেলা’’,
কেদারপুরের পাগলা বাড়ীর মেলা নাগরপুরের অন্যতম সাংস্কৃতিক এতিহ্য। উপজেলায়
মোট হাট-বাজারের সংখ্যা ১৯টি।
শিক্ষার হার ও প্রতিষ্ঠানঃ
শিক্ষার হারঃ ৩৫.০৯%।
প্রতিষ্ঠানঃ (ক) কলেজ-৫টি। ( সরকারী ডিগ্রী কলেজ -০১টি। বেসরকারী ডিগ্রী কলেজ- ০২টি। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ-০২টি)।
(খ) মাধ্যমিক বিদ্যালয় - ৩৫টি।
(গ) নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়- ৪টি।
(ঘ) মাদ্রাসা - ১৯টি (কামিল ১টি, ফাজিল ১টি, আলিম ২টি, দাখিল ১৫টি)
এবং এবতেদায়ী মাদ্রাসা ৩৮টি।
(ঙ) প্রাথমিক বিদ্যালয় - মোট ১৪৪টি ( সরকারী ৯০টি, রেজিষ্টার ৪৫টি, রেজিষ্টার বিহীন ০৩টি,
কমিউনিটি ৭টি)।
(চ) কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যাঃ ২৮টি।
স্বাস্থ্য বিষয়কঃ (ক) সরকারী হাসপাতাল ০১টি (বেড সংখ্যা ৩১টি, বর্তমানে ৫০
বেড সংখ্যায় উন্নীত করার কাজ শেষ পর্যায়), উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ০৬টি,
ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ০৪টি, পশু হাসপাতাল ০১টি, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র
০৬টি। এ্যাম্বুলেন্স ০১টি।
কৃষি বিষয়কঃ
১। মোট আয়তনঃ ২৬,৩০০হেক্টর।
২। মৌজার সংখ্যাঃ ২১৮টি ।
৩। ইউনিয়নের সংখ্যাঃ ১২টি।
৪। গ্রামের সংখ্যাঃ ২৪৪টি ।
৫। ব্লকের সংখ্যাঃ ৩৩টি
কৃষি পরিবারের সংখ্যাঃ
ক) ভূমিহীন চাষীঃ (০.০২ হেক্টরের কম) ৬৭২৬ জন।
খ) প্রান্তিক চাষীঃ (০.২ হইতে ০.২ হেক্টর) পর্যন্ত ২৮৩৪২ জন।
গ) ক্ষুদ্র চাষীঃ (০.২০ হইতে ০.২ হেক্টর ) পর্যন্ত ২৮৩৪২ জন
ঘ) মাঝারী চাষীঃ ১.০ হইতে ৩.০ হেক্টর) পর্যন্ত ৮০৪৯ জন।
ঙ) বড় চাষীঃ (২.৫ হেক্টরের অধিক ) ৪৯৪ জন।
জমির পরিমানঃ (হেক্টর)
ক) মোট আবাদ যোগ্য জমিঃ ২২০৫০ হেক্টর ।
খ) আবাদী জমিঃ ২১.৯৮০ হেক্টর।
গ) সাময়িক পতিতঃ ২১৫ হেক্টর
ঘ) স্থায়ী পতিতঃ নাই।
ঙ) জলাশয়ঃ ৭৮০ হেক্টর ।
চ) অন্যান্য (বাড়ী প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ইত্যাদি ৩৫৫২ হেক্টর।
সেচ যন্ত্র এবং সেচের আওতায় জমির পরিমানঃ
ক) গভীর নলকুপ ০৯টি- ১৫৩ হেক্টর। খ) অগভীর নলকুপ ৫০৫৫টি-১৩৩৭১ হেক্টর। গ) পাওয়ার পাম্প ৪টি- ২০ একর।
কৃষি যন্ত্রপাতিঃ (ক) পাওয়ার টিলা ৩৪৩টি, (খ) টাক্টর - নাই, (গ) পাওয়ার থ্রেসার-১৩৬টি,
(ঘ) পাওয়ার থ্রেসার সিঙ্গেল- ৩২টি, (ঙ) পাওয়ার স্পেয়ার-৬টি, (চ) ফুট পাম্প -২১টি,
(ছ) ভুট্টা মারাই যন্ত্র -০১টি। (জ) ড্রাম সিডার-৪৫ টি।
ক) সার ডিলার (পাইকারী) -১২জন। খ) খুচরা সার বিক্রেতা -২৫০জন, গ) বীজ ডিলার -১০ জন, (ঘ)
কিটনাশক পাইকারী ডিলার ০৪ জন, (ঙ) কিটনাশক খুচরা ডিলার -৬৩জন।
খাদ্য গুদামের সংখ্যাঃ ০৪টি।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ
আঞ্চলিক সড়ক পাকা : ১৬ কিঃমিঃ
উপজেলা সড়ক
(ক) পাকা : ৫৪.১৬ কিঃমিঃ
(খ) কাঁচা : ৪৫.১৬কিঃমিঃ
মোটঃ ৯৯.২২ কিঃমিঃ
ইউনিয়ন সড়ক
(ক) পাকাঃ ১২.২০ কিঃমিঃ
(খ) কাঁচাঃ ৮২.০৫কিঃমিঃ
গ্রামীণ সড়ক
(ক) পাকাঃ ৪.৪৫কিঃমিঃ
(খ) কাঁচাঃ ১২৩.১৯ কিঃমিঃ
(গ) ব্রীজ/কালভার্টঃ ১৯২টি।
রাজস্ব বিষয়কঃ
১। উপজেলা ভূমি অফিসঃ ১টি।
২। ইউনিয়নের সংখ্যাঃ ১২টি ।
৩। ইউনিয়ন ভূমি অফিসঃ ১১টি।
৩। মোট মৌজার সংখ্যাঃ ২১৮টি।
৪। মোট জোত সংখ্যা কৃষিঃ ৫৭৫০৭
৫। মোট অকৃষি জোত সংখ্যাঃ ৬৭৫
৬। মোট খতিয়ান সংখ্যাঃ ৫২৫০১
৭। মোট কৃষি জমির পরিমাণঃ ১,২১,৭০০.১৭ একর
৮। মোট অকৃষি জমির পরিমাণঃ ১২৫.৯৪ একর
৯। আদর্শ গ্রামের সংখ্যা ১টি (উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ) = ১০টি।
১০। মোট খাস জমির পরিমানঃ ৮৫০.৮৮ একর
১১। বন্দোবস্তযোগ্য জমির পরিমানঃ ৭৩৯.৫৪ একর।
১২। বন্তোবস্তকৃত জমির পরিমানঃ Î
১৩। অর্পিত সম্পত্তির পরিমানঃ ৩৮৮১.৫৫ একর।
১৪। বন্দোবস্তকৃত জমির পরিমানঃ ২২৯.৭৪৫ একর।
১৫। সায়রাত মহালঃ ৩০টি।
১৬। জলমহালঃ ০৭টি। তার মধ্যে শুনসী বিল, কাশাদহ বিল, বনগ্রাম বিল, বারাপুষা বিল, মাইলজানী বিল,
কুষ্টিয়া বিল প্রধান।
১৭। বালু মহালঃ ০৩টি।
১৮। কোলঘাটঃ ০৩টি।
১৯। ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যাঃ ২০৫৫ জন।
২০। অন্যান্যঃ (ক) ধর্মীয় উপাসনালয়ঃ মসজিদ ৩৬২টি
মন্দির- ৯০টি।
(খ) পাঠাগারঃ ০৭টি।
(গ) এনজিওর সংখ্যাঃ ১১টি।
(ঘ) ডাকবাংলোঃ ০১টি।
নামকরণঃ বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে সাধারণভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গার
নামকরণ বিশেষত প্রাচীনত্বের দিক থেকে এর সঠিক যুক্তি স্বীকৃত কোন ব্যাখ্যা
বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। সেদিক থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোক বা জনশ্রুতির উপর
নির্ভর করতে হয়। নাগরপুরের নামকরণ নিয়েও একাধিক লোক কাহিনী বা জনশ্রুতি
প্রচলিত। প্রমত্তা যমুনা ধলেশ্বরী বেষ্টিত একটি ব’দ্বীপ বিশেষ জনপদ এই
নাগরপুর। জনশ্রুতি এই - সুলতান মাহমুদশাহর আমলে নাগরপুরের মামুদনগর ছিল
তাঁর রাজধানী। এখানে বিশাল এক নৌ ঘাটি ছিল তাঁর। শোনা যায় বিদেশী আক্রমনের
হাত থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্যেই সম্রাট মাহমুদ শাহ এই নৌ ঘাটিটি
নির্মাণ করেছিলেন। মামুদনগরে এখনো শেরশাহ-র জঙ্গল, মতিবিবির বাগ এবং ১০১টি
পুকুরের অস্তিত্ব অাঁচ করা যায়। কথিত আছে এক রাতেই কিনা এই পুকুরগুলো খনন
করা হয়েছিল। এক সময় বর্তমান চৌহালীর পূর্বাংশ , নাগরপুর, দৌলতপুরের অংশ
বিশেষ সহ পুরো এলাকা ছিল নদী এলাকা। কালের বিবর্তনে এই এলাকা চর এলাকায় রূপ
নেয়। চরাঞ্চল হলেও জনপদ সৃষ্টির পূর্বে এখানে প্রচুর বনজঙ্গল ছিল। জঙ্গলে
বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ থাকত। সাপগুলো বিভিন্ন নাগ-নাগিনী নামে পরিচিত
ছিল। বিষাক্ত সাপের ভয়ে ভীত থাকত সবাই। মানুষ একা চলতে সাহস করত না। সব
সময়ই দলবদ্ধভাবে চলাচল করত। এ সময় ভারতে পুরী থেকে ‘‘নাগর মিয়া’’ নামে এক
বৃদ্ধ এই এলাকায় আসেন। শোনা যায় তিনি ছিলেন অবিবাহিত। সাপ বা শরীসৃপ জাতীয়
প্রাণী নিয়েই তিনি জীবন যাপন করতে ভালবাসতেন। এই ভালবাসাবাসির সূত্র ধরেই
পুরী থেকে একে একে তাঁর অনেক অনুসারীরা আসতে থাকল এবং এক সময় এ অঞ্চল
মানুষের জন্যে ভয় থেকে অভয়ের অঞ্চল হয়ে উঠল। আর এভাবেই নাগরে -নাগরে পূর্ণ
হয়ে এলাকার নাম হলো নাগরপুর। অবশ্য এর একাধিক ভিন্ন মতও দেখা যায়।
প্রাচীন লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত নাগরপুর মূলতঃ নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ার
কারনেই নাগরপুরে গড়ে উঠে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা কেন্দ্র। ব-দ্বীপ সদৃশ
নাগরপুরের পূর্বে ধলেশ্বরী এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা। যমুনা নদী
দিয়ে সরাসরি কলকাতার সাথে এলাকার দৈনন্দিন যোগাযোগ ছিল।
সলিমাবাদের বিনানইর হাট খুবই বিখ্যাত ছিল। ইংরেজ আমল শেষ এবং পাকিস্তান
আমলের একটি বড় সময়কাল পর্যন্ত এই ঘাট থেকেই তৎকালীন বৃটিশ রাজাধানী কলকাতার
সাথে মেইল স্টিমারসহ মাল এবং যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। ফলে
নাগরপুরের সাথে রাজধানী কলকাতার একটি বানিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে
উঠে। আর এরই সূত্র ধরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক মোঘল আমলের সূচনা লগ্নে
নাগরপুরে চৌধুরী বংশের আর্বিভাব ঘটে। সুবিদ্ধা খা-ই এই চৌধুরী বংশের পূর্ব
পুরুষ বলে জানা যায়।
মোঘল আমলের শেষ তথা বৃটিশ আমলের একটা সময়
পর্যন্ত এদেশের সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত মান তেমন ভাল ছিল না। বলা চলে
শিক্ষার ক্ষেত্রে এলাকার মানুষ একেবারেই অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। এমনই এক
তমসাচ্ছন্ন অবস্থায় ক্ষণজন্মা পুরুষ কিশোরী চন্দ্র প্রামানিক সর্বপ্রথম
সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে কে,সি, গরীব পাঠশালা নামে
একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। এটিই নাগরপুরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সর্বপ্রথম
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর ১৮৭৯ সালে গয়হাটা উদয়তারা মাইনর স্কুল, ১৮৮৫ খ্রিঃ
প্রতিষ্ঠিত হয় আড়রা কুমেদ মাইনর স্কুল এবং ১৮৯০খ্রিঃ প্রতিষ্ঠিত হয়
কেদারপুর মাইনর স্কুল। শিক্ষার পথিকৃত কিশোরী চন্দ্র প্রামানিক প্রাথমিক
শিক্ষা পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার প্রবল বাসনা নিয়ে নাগরপুরে শিক্ষানুরাগী
ব্যক্তিদের কাছে উদাত্ত আহবান জানান। তারই আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন
শিক্ষানুরাগী দুই মহাপ্রাণ - যাদব লাল চৌধুরী এবং হরিলাল চৌধুরী। এই
ত্রিরত্ন মিলে ১৯০০খ্রিঃ ১ফেব্রুয়ারী প্রতিষ্ঠা করেন ‘‘নাগরপুর হাই ইংলিশ
স্কুল’’। বাঁশ আর ছন দিয়ে গড়া অত্র এলাকার একমাত্র হাইস্কুলটি একসময় যখন
আর্থিক সংকটে পরে তার এক পর্যায়ে ইতোমধ্যে আধুনিক শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত
নাগরপুর চৌধুরী বংশের প্রাণ পুরুষ রায় বাহাদুর সতীশ চন্দ্র চৌধুরী এবং তার
শ্রদ্ধেয় কাকা জগদীন্দ্র মোহন চৌধুরী মিলে তাঁর প্রপিতামহের নামে
বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন ‘‘যদুনাথ হাই ইংলিশ স্কুল’’।
এভাবেই
চৌধুরী পরিবারের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁদের জমিদারী এবং নিয়মিত
ব্যবসা বানিজ্যের পাশাপাশি এলাকার বৃহত্তর সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য গড়ে তোলেন
পুন্ডরীকাক্ষ দাতব্য চিকিৎসালয়, সুপেয় পানি পান করার জন্যে খনন করেন
নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত সুবিশাল ‘‘দীঘি উপেন্দ্র সরোবর’’, ‘‘উমা সন্দুরীর
বাগান’’, প্রতিষ্ঠা করেন উপ-মহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবল ক্লাব- ইষ্ট
বেঙ্গঁল ক্লাব। বর্তমান হাসপাতাল মাঠে (যদুনাথ ময়দান) যাদের ফুটবল ক্রীড়া
নৈপুন্যে মুগ্ধ হতেন এলাকার ক্রীড়ামদি মানুষ।
এভাবেই নাগরপুরে
চৌধুরী পরিবারের আধুনিক চিন্তা, জীবন দর্শন এবং মননের পাশাপাশি পাকুটিয়া
জমিদার বাড়ী সহ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব
কর্তৃক গড়ে উঠে বিভিন্ন স্থাপনা যা পরবর্তীকালে জনস্বার্থে ব্যবহারের
পাশাপাশি দর্শনীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও নন্দিত। এর মধ্যে বিশেষভাবে
উল্লেখ্য চৌধুরীবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপত্য, যাদব বাবুর বাড়ীর সিংহদ্বার,
পাকুটিয়া জমিদারদের সুদৃশ্য নান্দনিক অট্টালিকা, গয়হাটার মঠ, সলিমাবাদের
জামে মসজিদ, রাথুরা শাহ পীরের মাজার, ভয়াল একাত্তরের বিশেষ স্মৃতি স্মারক
বনগ্রামের গণকবর। সহবতপুর ইউনিয়নের সন্তান সন্তুতি হারা নিঃস্ব এক অভাগা
পিতার শোকগাঁথা স্মারক, একান্তরের সারাংপুর ট্রজেডি, নাগরপুর কেন্দ্রীয়
মসজিদ, কেন্দ্রীয় মহা-শ্মশান, সরকারী কলেজ, যদুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,
নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়- এছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন সময় বিশিষ্ট মানব
দরদী সামাজিক ও রাজনৈতিক সাহিত্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ইতিহাস সত্য যে,
ধুবড়িয়া ইউনিয়ন সদরে বাংলা সাহিত্যে ‘‘মনসা মঙ্গল’’ কাব্যের কবি রায় বিনোদ
এর আদিবাস ছিল।
দর্শনীয় স্থান
(ক) নাগরপুর চৌধুরী বাড়ীর সুদৃশ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্য।
(খ) পুন্ডরীকাক্ষ হাসপাতাল।
(গ) উপেন্দ্র সরোবর ।
(ঘ) যাদব বাবুর বাড়ীর সিংহদ্বার।
(ঙ) পাকুটিয়া জমিদারদের স্থাপত্য মুল্য সমৃদ্ধ মনোরম অট্টালিকা।
(চ) রাথুরা শাহ পীরের মাজার।
(ছ) গয়হাটার মঠ।
(জ) বনগ্রামের গণকবর।
(ঝ) সলিমাবাদের জামে মসজিদ